Advertisement
  1. Photo & Video
  2. Metadata
Photography

লাইটরুম থেকে ওয়ার্ডপ্রেস: কিভাবে তৈরি করবেন এসইও-অপ্টিমাইজড ইমেজ 

by
Difficulty:IntermediateLength:LongLanguages:
This post is part of a series called Digital Asset Management for Photographers (Learning Resource Guide).
How to Organize Your Photos in WordPress With WP Real Media Library
Getting Started With Photos for OS X

Bengali (বাংলা) translation by Shakila Humaira (you can also view the original English article)

ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে এমন একটি সফটওয়্যার যা ওয়েবের প্রায় ২৫% ওয়েবসাইটকে পরিচালনা করে থাকে। বড় বড় ওয়েবসাইটসমূহ যেমন নিউ ইয়র্ক টাইমস, সিএনএন এবং ফোর্বস এগুলো সব তাঁদের ওয়েবসাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ডেভেলপারদের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি এডোবি লাইটরুমও ফটোগ্রাফারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই টিউটোরিয়ালে আপনি শিখবেন, কিভাবে এই শক্তিশালী টুল দুটিকে একত্রে ব্যবহার করতে হয়। আপনি এখান থেকে আরো শিখবেন, কিভাবে লাইটরুম থেকে ইমেজ নিয়ে সেগুলো খুব দ্রুত এবং সহজে ওয়ার্ডপ্রেস চালিত ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এটা এমনভাবে করবো, যা সার্চ-ইঞ্জিন বান্ধব হবে। তাহলে মানুষ খুব সহজেই আপনার ইমেজগুলো খুঁজে পাবে।

শিক্ষানবীশদের জন্য ইমেজ এসইও

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (যা এসইও নামেও পরিচিত) হচ্ছে এক সেট পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ডিজাইন, প্রকাশনা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার অনুশীলন, যা আপনার ওয়েবপেইজ গুলোকে সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পেতে সহায়তা করে। সত্যি কথা হচ্ছে, ইমেজের ক্ষেত্রে এসইওতে আসলে তেমন কোন যাদুকরী কৌশল নেই। এক্ষেত্রে আপনার ছবিতে এমন কিছু প্রাসঙ্গিক অনুষঙ্গ যুক্ত করতে হবে যা কম্পিউটারের কাছে বোধগম্য হয়ে উঠে। 

শব্দার্থিক তথ্য

ধরা যাকঃ আপনি আপনার পছন্দের সার্চ ইঞ্জিনে একটি সার্চ কুয়েরী বা অনুসন্ধান শব্দগুচ্ছ প্রবেশ করালেন। সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে বেশ কিছু পেইজের তালিকা দেখালো, যেগুলোকে এই সার্চ ইঞ্জিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার সার্চের বিষয়বস্তুর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করেছে। সার্চ ইঞ্জিন সাধারণত রোবট/ক্রাউলার—কম্পিউটার প্রোগ্রাম এবং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে—যা ওয়েবে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং এবং কীওয়ার্ডের সাথে মিল রেখে বিভিন্ন তালিকা তৈরি করে।

সার্চ ইঞ্জিন ওয়েব পেইজের কোন একটি ইমেজ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু এই ইমেজটি কি বিষয়ে তা ধরতে পারে না, তাই আমরা ইমেজের সাথে অন্যান্য তথ্যও দিবো, যাতে সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে যে, এই ইমেজটি কি বিষয়ে। এই ধরণের তথ্যগুলোকে শব্দার্থিক তথ্য বলা হয়। এই তথ্য কোন নির্দিষ্ট ছবির উপর ভিত্তি করে তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করে এবং ওয়েবপেইজের বাকি অংশের সহায়তা নিয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্যসমূহ প্রদর্শন করে। আমরা শব্দার্থিক তথ্যের জন্য মেটাডাটার ক্ষেত্রগুলো ব্যবহার করতে পারি।

ইমেজটি খুঁজে পেতে সাহায্য করার জন্য গুগল আমাদের ওয়েবপেজের HTML এ লুকানো কয়েকটি ট্যাগ ব্যবহার করে।  এজন্য আমরা titlestags, এবং alt টেক্সটের মত বিষয়গুলো আমাদের ওয়েবসাইটের কোডে যুক্ত করতে পারি যাতে সার্চ ইঞ্জিন খুব সহজেই আমাদের ওয়েবসাইটটিকে ইনডেক্সে লিপিবদ্ধ করতে পারে। শব্দার্থিক তথ্য যোগ করলেই যে আপনার ওয়েবসাইটটিকে গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেইজে প্রদর্শন করবে, এমন কোন কথা নেই। কিন্তু বেশ কিছু প্রাথমিক এসইওর ব্যবহার আপনার প্রথম পেইজে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে। এসব তথ্য বেশ উপকারীও বটে!

এখানে আপনার ইমেজে এসইও অপ্টিমাইজেশন তথ্য যোগ করার পাঁচটি মূল বিষয় দেয়া হলোঃ

ফাইলের নাম

আপনি যদি আর কিছু না-ও করেন, তবুও নিশ্চিত হউন যাতে আপনার ইমেজটি এমনভাবে নামকরণ করা হয়, যেটা আসলেই ইমেজের বিষয়বস্তুর বিবরণ দিয়ে থাকে। একটি সাধারণ ফাইলের নাম "IMG_9052.cr2." থেকে অনেক উন্নত সংস্করণ হতে পারে "resizing-images-tutorial.jpg" এমন ধরণের নাম। এমন কোন ফাইল নামের ব্যবহার যা সত্যিকার ভাবেই ফাইলের বিষয়বস্তুর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, তা খুব সহজেই সার্চ করে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

আমি যখন লাইটরুম থেকে কোনও ফাইল এক্সপোর্ট করে থাকি, তখন সাধারণত এক্সপোর্ট উইন্ডোতে "File Naming" সেকশন ব্যবহার করি। মনে রাখবেন, আমরা মূল ফাইল নয়, এক্সপোর্ট করা চিত্রটি পুনরায় নামকরণ করতে চাই। File Naming সেকশনটি খুঁজে বের করুন এবং Rename To বক্সে চেকমার্ক দিন। তারপর ড্রপডাউন অপশন থেকে "custom name" অপশনটি পছন্দ করুন, যাতে আমরা সহজেই আমাদের কাস্টম টেক্সট বা নামটি যুক্ত করতে পারি।

শেষের ধাপটি হচ্ছে কাস্টম টেক্সট যুক্ত করা। ওয়েবের জন্য, একটি ফাইল নামের ক্ষেত্রে শব্দ আলাদা করতে স্পেসের পরিবর্তে ড্যাশ ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। আরও ভালো ফলাফলের জন্য প্রত্যেকটা ইমেজ ফাইলের নামই পরিবর্তন করা উচিত।

Custom Name - Sequence
আপনার ফাইলটি খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পরিবর্তিত নাম ব্যবহার করুন। অল্প কিছু শব্দের মাধ্যমে বিষয়বস্তু তুলে ধরার ফলাফল সুদূরপ্রসারী হতে পারে!

অল্টার টেক্সট/Alt Text

বিকল্প পাঠ্য, বা "alt text", একটি চিত্রের বিষয়বস্তু টেক্সট বিবরণ আকারে প্রদান করতে ব্যবহৃত হয়। মনে রাখবেন, কোনও সার্চ ইঞ্জিন কোন ছবিতে কি আছে তা নির্ধারণ করতে পারে না, (একারনেই) আমরা Alt টেক্সট ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনকে এ ব্যপারে সাহায্য করবো।

আপনি সম্ভবত কখনই alt টেক্সট দেখতে পাবেন না; কিন্তু গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে, সার্চ ইঞ্জিন এটাকে দেখতে পায়।
Image alt text
ইমেজের জন্য HTML এ alt টেক্সটও যুক্ত করা উচিত। Alt টেক্সট টি ইমেজের বর্ণনা সংক্ষেপে তুলে ধরবে। আমরা ওয়ার্ডপ্রেস মিডিয়া লাইব্রেরিতে এই alt টেক্সটটি সেট করতে পারি, এবং ওয়ার্ডপ্রেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি যোগ করবে।

Alt টেক্সট আপনার ইমেজের জন্য ব্যবহৃত HTML এর মধ‍্যেই ব্যবহার করা সম্ভব। ইমেজের একটি বিবরণ যুক্ত করার জন্য এটি ব্যবহার করুন। বিষয়বস্তু অনুযায়ী ইমেজের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ ইমেজটিকে এসইও-বান্ধব করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোডিং করা আপনার ধাতে সহ‍্য না হয় তাহলে চিন্তার কিছু নেই; এই নির্দেশিকার পরের অংশে আমরা দেখবো, কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ব‍্যবহার করে alt টেক্সট যুক্ত করতে হয়।

এছাড়াও আপনার ইমেজের জন্য Alt টেক্সট থাকা দৃষ্টিশক্তিহীন প্রতিবন্ধীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্ক্রিন রিডিং সফটওয়্যার এমন মানুষদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যারা পূর্ণ বা আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। এই সফটওয়্যারে তাদের বুঝতে সাহায্য করার জন্য ছবির জায়গায় Alt টেক্সটটি পড়া হয়ে থাকে। ব‍্যবহারযোগ‍্যতা বাড়াতে আপনার ওয়েব পেজ কিভাবে অপটিমাইজেশন করবেন সে সম্পর্কে আমহার্স্ট কলেজের একটি অসাধারণ নির্দেশিকা রয়েছে।

টাইটেল বা শিরোনাম

এইচটিএমএল ট্যাগে একটি ছবির শিরোনাম বা টাইটেল অবশ্যই থাকা উচিত। শিরোনাম বা টাইটেল বর্ণনাটির একটি ছোট সংস্করণ হবে, যা কেবলমাত্র কয়েকটি শব্দে চিত্রে কি আছে সে বিষয়ে‌‌ ইশারা করবে।

Image title text
আপনি অবশ্য "title=" ট্যাগ দিয়ে একই ইমেজের HTML ব্লকের ভিতর টাইটেল বা শিরোনাম সেটআপ করতে পারেন। এবার, ওয়ার্ডপ্রেস এটা সহজেই যুক্ত করে নিবে।

টাইটেল হচ্ছে আমাদের সাইটকে ইনডেক্সে অন্তর্ভুক্ত করতে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আরেক টুকরা ধাঁধাঁর মত। ওয়ার্ডপ্রেসে টাইটেলের জন্য আলাদা একটি ফিল্ড বা ক্ষেত্র আছে যা এসইওর ব্যপারে আমাদেরকে সাহায্য করবে।

ক্যাপশন

এমন একটি লেখা হিসেবে ক্যাপশনের কথা চিন্তা করুন, যেটা একটা ইমেজের ঠিক পরেই ইমেজ সম্পর্কে একটি ছোট্ট বর্ণনা দিয়ে থাকে। ক্যাপশন একটি ইমেজ ট্যাগে সরাসরি যোগ করা হয় না, কিন্তু এটা অবশ্যই সম্পূরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। HTML5 এ, <figcaotion> ট্যাগটি <figure> গ্রুপের অংশ, যা আরও ভাল। কিভাবে কার্যকর ক্যাপশন লিখতে হবে সে সম্পর্কে আরও জানতে ডন ওস্টারহোফের Caption, Description, Title, ALT: How to Add Semantic Information to Images লেখাটি থেকে আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন। শক্তিশালী ক্যাপশন লিখতে পারা এমন একটি দক্ষতা যা প্রতিটি ফটোগ্রাফারের থাকা উচিত!

লাইটরুম থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে মেটাডেটা ম্যাপিং

এখন নিশ্চয়ই আমরা ইমেজ এসইও এর মূল ভিত্তি কি তা বুঝতে পেরেছি, চলুন এবার দেখা যাক, এগুলো কতটা দ্রুত এবং সহজে ওয়ার্ডপ্রেস-চালিত ওয়েবসাইটে যুক্ত করা যায়। আমরা এবার লাইটরূম ক্যাটালগ থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে একটি ইমেজ টাইটেল এবং ক্যাপশন পাঠাবো।

লাইটরুম লাইব্রেরি মডিউলের মধ্যে, ডান দিকে মেটাডাটা প্যানেল খুঁজে পাবেন। এখানে আপনি ইমেজ টাইটেল এবং ক্যাপশন দেখতে পাবেন।

আপনি যখন লাইটরুম থেকে কোন ইমেজ এক্সপোর্ট করবেন, তখন "সব মেটাডাটা" অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। এটা টাইটেল এবং ক্যাপশন JPEG ইমেজে সংরক্ষিত করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করবে এবং ওয়ার্ডপ্রেস এটা বুঝতে এবং অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

Include metadata on export
একটি ইমেজ এক্সপোর্ট করার সময় নিশ্চিত করুন যাতে আপনার ফাইলের মধ্যে মেটাডাটা অন্তর্ভুক্ত করা থাকে। এর ফলে ওয়ার্ডপ্রেসেও মেটাডাটাটি উপলব্ধ হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস আপলোড করুন

যখন আপনি একটি পরিচ্ছন্ন নাম, টাইটেল, এবং ক্যাপশনযুক্ত ইমেজ ফাইল রপ্তানি করবেন, তখনই সেটা ওয়ার্ডপ্রেসে আপলোড করার জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত হবে। ওয়ার্ডপ্রেস মিডিয়া লাইব্রেরিতে যান এবং এই ইমেজটি আপলোড করুন, যেমনটি আপনি সাধারণত করে থাকেন। আপলোড করা ইমেজটি ঠিক একই টাইটেল এবং ক্যাপশন ব্যবহার করবে, যেমনটি আমরা লাইটরুম মেটাডাটা প্যানেল থেকে সেট আপ করেছি!

Image Uploaded to WordPress
অবশেষে, আমাদের শ্রমের ফল পেলাম! টাইটেল এবং ক্যাপশন যেটা আমরা ঠিক করে দিয়েছি!

ওয়ার্ডপ্রেসে পৌঁছানোর পর আপনাকে ইমেজগুলিতে স্বতন্ত্রভাবে alt টেক্সট যোগ করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, ওয়ার্ডপ্রেসের "alternative text" ম্যাপের জন্য লাইটরুমে কোনো ব্যবস্থা নেই। মনে রাখবেন যে এটি HTML কোডে লুকানো টেক্সট যা সার্চ ইঞ্জিনগুলিকে আমাদের ইমেজগুলি খুঁজে পেতে এবং ইনডেক্স করতে সাহায্য করবে।

Alt text
ওয়ার্ডপ্রেস মিডিয়া লাইব্রেরির মধ্যে ছবিতে Alt টেক্সট যোগ করতে হবে।

Alt টেক্সট ঠিক করার পরে, ছবিটি সংরক্ষণ করতে আপডেট ক্লিক করুন। যখন আপনি এটা কোন পোস্ট অথবা পেইজে প্রবেশ করাবেন, তখন ওয়ার্ডপ্রেস মেটাডাটা টিকে সংরক্ষণ এবং html কোডে অন্তর্ভুক্ত করবে।

এই ধাপগুলো ওয়েবের জন্য ইমেজ অপটিমাইজ করার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ওয়েবের জন্য ইমেজগুলিকে পুনরায় আকার প্রদান এবং কম্প্রেস করে আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারি।

ওয়েবের জন্য আকার পরিবর্তন

ওয়েবের জন্য ইমেজ তৈরি করা কীওয়ার্ডসহ লোড করা এবং ওয়ার্ডপ্রেসে আপলোড করার থেকেও বেশ জটিল। একই সাথে আমাদেরকে ফাইলের আকার ও মাত্রা সম্পর্কেও চিন্তা করতে হবে। ইন্টারনেটে সংযুক্ত জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তাদের ব্রডব্যান্ড কানেকশনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নয় এ কথাটি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। তাই আমাদেরকে তাঁরা কি ধরণের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে তা বিবেচনা করতে হবে।

সম্প্রতি mobiForge এ লেখা হয়েছে যে, বর্তমানের একটি ওয়েব পেইজের গড় আয়তন ১৯৯৩ সালের ক্লাসিক ভিডিও গেম ডুমের এর থেকেও বড়। এটা সার্বিকভাবে খারাপ নয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে ওয়েব পেইজগুলোতে আগের যে কোন সময় থেকে বেশী মাল্টিমিডিয়া ও ইমেজ ফাইল ব্যবহার করা হয়। তাই এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত, যাতে করে আমরা সবসময় আমাদের ইমেজ ফাইলের সাইজ অপটিমাইজ করতে পারি।

যখন আমরা কোনো ইমেজ ওয়েবে আপলোড করার জন্য প্রস্তুত হই তখন দুইটি মূল বিষয় অপটিমাইজ করতে হবে: মাত্রা এবং কোয়ালিটি। চলুন এই দুটি কিভাবে নিখুঁত করা যায় সেদিকে মনোযোগ দেই।

মাত্রা

একটি ডিজিটাল ইমেজের মাত্রা হচ্ছে দৈঘ্য এবং প্রস্থ যা পিক্সেল দিয়ে মাপা হয়। "600 by 400 pixels" দিয়ে একটি ইমেজকে সাধারণত 600 পিক্সেল প্রস্থ এবং  400 পিক্সেল উচ্চতা বুঝানো হয়।

আমার Canon 6D দিয়ে তোলা ছবিগুলি সাধারণত 5472 x 3648 পিক্সেলের হয়ে থাকে। যখন আপনি Tuts+ এ এগুলোকে দেখে থাকেন, এগুলো সাধারণত দৈর্ঘ্যে 850 পিক্সেল নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তত্ত্ব অনুসারে, আমি চাইলে পূর্ণ ইমেজটাই আপলোড করতে পারি, কিন্তু এটা যত বড়ই হোক না কেন সর্বোচ্চ 850 পিক্সেলের বেশী দেখাবে না।

ঠিক এই কারনেই আমি সর্বদা আমার ইমেজকে ওয়েব-বান্ধব করে পুনরাকৃতি দিয়ে থাকি। আমার দর্শকদের মনিটর নিশ্চয়ই এমন নয়, যাতে প্রত্যেকটি পিক্সেল দেখানো হবে, তাই লোডিং টাইম সাশ্রয় করতে এগুলোকে পুনরাকৃতি প্রদান করাই সবচেয়ে উত্তম। 

Web Size Simulation
উপরের ছবিতে দেখানো হয়েছে একটি আসল ১০ মেগা পিক্সেলের ইমেজটা আসলে কতটা বড় এবং ওয়েবে এটাকে আসলে কতটুকু দেখায়। ১০ মেগাপিক্সেলের যেই ইমেজটি আমি তুলেছি, সেটার স্কেল করা ভার্শন হচ্ছে ঠিক বড় ইমেজের বিপরীতে ছোট ইমেজটির মত। ইনসেটে দেখানো হয়েছে, এটা আসলে বড় ইমেজের তুলনায় Tuts+ এ কতটুকু হয়ে প্রদর্শিত হয়। একটি পূর্ণ প্রস্থের ১০ মেগাপিক্সেলের ছবি ৪০০০ পিক্সেলের চেয়েও প্রশস্ত, যেখানে এটা Tuts+ আর্টিকেলগুলোতে সর্বোচ্চ  মাত্র ৮৫০ পিক্সেলে প্রদর্শিত হয়ে থাকে। কেন পুনরাকৃতি প্রদান করা এতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই চিত্রণটি দেখলে তা খুব সহজেই বুঝা যায়।

ওয়েবে একটি ইমেজের জন্য সঠিক মাত্রা কি? উত্তর হলো, "এটা কোথায় ব্যবহার করা হবে, তাঁর উপর নির্ভরশীল।" যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার থিমে ইমেজের জন্য কি পরিমান দৈর্ঘ্য সাপোর্ট করে তা পরীক্ষা করে দেখুন। ওয়ার্ডপ্রেস থিমের মধ্যে চিত্রগুলি কীভাবে প্রদর্শিত হবে তা ডেভেলপাররা নির্ধারণ করে থাকে। যদি ডকুমেন্টেশন উপলভ্য না হয়, তাহলে PiliApp এর মত সাইট ব্যবহার করে আপনার ইমেজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাপ সেটআপ করে নিতে পারেন।

কোয়ালিটি

উচ্চ মানের ছবিগুলি ডিস্কের বেশী জায়গা ব্যবহার করে। যত ডিটেইল এবং রঙ্গিন ছবি হবে, ফাইলটি ততই বড় হবে। যদিও আমাদের ইমেজ আর্কাইভে এই পূর্ণ সাইজের ইমেজগুলো অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব, কিন্তু একটি ইমেজকে ওয়েবের জন্য তৈরি করার মানে হলো, কোয়ালিটি এবং ফাইল সাইজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি করা। কিছুটা মানসম্মত করলে দর্শকের জন্য এই ইমেজটি খুব দ্রুত গতিতে লোড হবে।

লাইটরুমে এক্সপোর্ট করার সময়, একটি ইমেজের আউটপুট মানসম্মত করতে আপনি কোয়ালিটি স্লাইডার ব্যবহার করতে পারেন। এটা একটি 0-100 মাপের স্কেল বা পরিমাপ, 0 মানের ইমেজ কোয়ালিটি দিয়ে সবচেয়ে ছোট ফাইল সাইজ তৈরি করা হয়। একটি 100 কোয়ালিটির ইমেজ মান এবং সাইজ দুটোই বৃদ্ধি করে।

Image quality comparison
এই ইমেজ মানের তুলনাটি বিভিন্ন মানের সেটিংসের মধ্যে বেশ কিছু সুক্ষ্ম পার্থক্য দেখাচ্ছে। কিছু পার্থক্য নিখুঁত ও বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়, যেমন আকাশের রং। লক্ষ্য করুন যে, উচ্চমানের ছবির তুলনায় সর্বনিম্ন মানের ছবিতে, আকাশে কিছু কিছু "বক্র রেখা" (সূক্ষ্ম লাইন) দেখা যাচ্ছে। 25 কোয়ালিটির ইমেজের সাইজ 91kb, যেখানে 100 কোয়ালিটি ইমেজের সাইজ ছিলো 366kb। এটা হচ্ছে মান এবং ফাইল সাইজের মধ্যে সামঞ্জস্য বের করার উপায়।

ফাইল সাইজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমার প্রিয় একটি উপায় হল "Limit File Size To" অপশনটি ব্যবহার করা। আমি প্রায়ই এই অপশনটি ব্যবহার করি, যখন আমি Tuts+ এ প্রকাশ করার জন্য ফাইলসমুহ এক্সপোর্ট করি, কারণ ওয়ার্ডপ্রেসে কোন রচনার জন্য ইমেজ লিমিট হচ্ছে সর্বোচ্চ 150 কিলোবাইট।

"Limit File Size To" অপশনের ব্যবহার কোয়ালিটি স্লাইডারকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যায়। 0 এবং 100 এর মধ্যে একটি মান নির্বাচন করার পরিবর্তে, আপনি কেবল সর্বাধিক ফাইলের আকার (কিলোবাইটে) সেট করতে পারেন এবং লাইটরুম আপনার জন্য একটি মানসম্মত সেটিং চয়ন করবে।

Limit File Size screenshot
কোয়ালিটি স্লাইডারের পরিবর্তে "Limit File Size To" বক্সটি ব্যবহার করা যেতে পারে। যখন আপনি এক্সপোর্ট উইন্ডোতে বাক্সটি চেক করেন, তখন আপনার ছবির জন্য সর্বাধিক ফাইল সাইজ চয়ন করুন এবং লাইটরুম সে অনুযায়ী কাজ করবে।

ওয়েব ইমেজের জন্য কোয়ালিটি স্লাইডার ব্যবহার করার সময়, আমার অভিজ্ঞতা থেকে, আমি সাধারণত 60-75 মানের মধ্যে সেটিংস ঠিক করি। এটা ফাইলের আকার এবং ছবির মানের জন্য সব থেকে ভালো জায়গা বলে মনে করা হয়। স্লাইডারকে আরও বাড়ানো মানে হচ্ছে, কোন ধরণের ভিজ্যুয়াল পার্থক্য ছাড়াই অনেক বড় ফাইল উৎপন্ন করা।

আপনি যদি ওয়েবের জন্য ইমেজ পুনরাকৃতি দেয়ার মূল চাবিকাঠি সম্পর্কে আরও জানতে চান, তাহলে এ বিষয়ে আমার গত বছরের লেখাটি পড়তে পারেন, How to Export JPGs for the Web from Adobe Photoshop Lightroom। যদিও এই টিউটোরিয়ালে এসইওর জন্য মেটাডাটার ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়েছে, ইমেজের আকার সার্চ-বান্ধব হওয়ার জন্যও তা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সংকলন করুন ও শিখতে থাকুন

এই টিউটোরিয়ালে, আমরা লাইটরুম থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে কিভাবে সহজে ইমেজসমুহ এক্সপোর্ট করতে হয় সে সম্পর্কে জানলাম। এ ব্যপারে কোনও ভুল করবেন না যে, এটা আপনার ওয়েবসাইটকে নির্ধারিত কীওয়ার্ড হিসেবে গুগলের প্রথম পাতায় নিয়ে যাবে না, কিন্তু এটা আপনার ইমেজটি খুঁজে পেতে কারো জন্য সাহায্যকারী হতে পারে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এমন অনেক ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন, অথবা এড-অন আছে, যা দিয়ে এই প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায়। তবে, যেসব প্লাগিন নিয়মিত আপডেট করা হয়না সেগুলো আপনার সাইটের নিরাপত্তার দুর্বলতা গুলো খুলে দিতে পারে। এছাড়াও ওয়ার্ডপ্রেসের নতুন ভার্সনের সাথে প্লাগিনের সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য আপনাকে একজন ডেভেলপারের উপর নির্ভর করতে হবে। এ ব্যাপারে দুটি জনপ্রিয় প্লাগইন হচ্ছে WP/LR Sync এবং LR/Blog

যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে আরও জানতে চান, তাহলে Tuts+ code সেকশনে ওয়ার্ডপ্রেসকে পরিবর্তন এবং সম্প্রসারণ করার জন্য বিস্তর বিষয়বস্তু পাবেন।  ফটো এবং ভিডিও সেকশনেও এডোবি লাইটরুম সম্পর্কে অসংখ্য রচনা আছে, যদি আপনি এই সম্পর্কে দক্ষতা আরও ঝালাই করতে চান।

সবশেষে, এসইও হচ্ছে গবেষণার জন্য সর্বদা পরিবর্তনশীল একটি এলাকা। গুগল যেসব পেইজ তাঁদের সার্চ কুয়েরির জন্য ভালো মনে করছে, সেগুলো সহজেই খুঁজে পেতে সর্বদাই তাঁরা তাঁদের অ্যালগরিদম হালনাগাদ করছে। এসইওর জন্য অসংখ্য খারাপ পরামর্শ এবং টিপস খুঁজে পাবেন ইন্টারনেটে। তবে এসইও সম্পর্কে জানার জন্য আমার কাছে সেরা সোর্স হচ্ছে Moz Blogস্যামসাং ম্যাগাজিনের প্রতিভাবানরাও এসইও অপটিমাইজ করা ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করবেন সে সম্পর্কে দারুন লিখেছে।

ওয়েবের জন্য ইমেজ তৈরি করতে আপনি কি করছেন? আমাকে মন্তব্য বিভাগে জানাবেন।


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Looking for something to help kick start your next project?
Envato Market has a range of items for sale to help get you started.